সন্দেশখালিতে ভোটার তালিকায় ভয়ংকর কারচুপি! জীবিতকে 'মৃত' ও 'নট ইন্ডিয়ান সিটিজেন' ঘোষণা, কমিশনের দ্বারস্থ ISF
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: সন্দেশখালিতে ভোটার তালিকা নিয়ে এক বড়সড় দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এল। জীবিত মানুষকে 'মৃত' এবং ভারতীয় নাগরিকদের 'নট ইন্ডিয়ান সিটিজেন' (Not Indian Citizen) হিসেবে চিহ্নিত করার অভিযোগ উঠল। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO)-এর দ্বারস্থ হলো ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (ISF)-এর এক প্রতিনিধি দল।
আইএসএফ নেতৃত্বের দাবি, সন্দেশখালি বিধানসভার নাজাট থানা এলাকার বিভিন্ন বুথে বিএলও (BLO)-র মাধ্যমে কিছু কাগজ ছড়ানো হচ্ছে। সেখানে নির্দিষ্ট কিছু মানুষের নামের পাশে 'নট ইন্ডিয়ান সিটিজেন' অথবা 'মৃত' (Death) লিখে দেওয়া হয়েছে। অথচ ওই ব্যক্তিরা বহাল তবিয়তে বেঁচে আছেন এবং বংশপরম্পরায় তাঁরা এদেশের নাগরিক।
সিইও দপ্তরে বিক্ষোভ ও ডেপুটেশন
শুক্রবার সিইও-র সঙ্গে দেখা করে তিনটি সুনির্দিষ্ট উদাহরণ তুলে ধরেন আইএসএফ নেতৃত্ব।
১. দু'জন জীবিত ব্যক্তিকে ভোটার তালিকায় 'মৃত' দেখানো হয়েছে।
২. একজনকে 'ভারতীয় নাগরিক নন' বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।
প্রতিনিধি দলের এক সদস্য জানান, "আমরা সিইও স্যারের কাছে প্রমানসহ এই বিষয়গুলি তুলে ধরি। তিনি নিজেও এই ঘটনায় অবাক হয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশন থেকে এমন কোনও নির্দেশিকা দেওয়া হয়নি। অর্থাৎ, বুথ স্তরে কেউ বা কারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভুল বার্তা ছড়িয়ে মানুষকে আতঙ্কিত করার চেষ্টা করছে।"
ভয়াবহ তথ্য ও ভুক্তভোগীদের বয়ান
সিইও দপ্তরে পেশ করা নথিতে উঠে এসেছে আকবর আলী মোল্লা ও আঞ্জা বিবি মোল্লার নাম।
আকবর আলী মোল্লা: তাঁর পিতা জামাত আলী মোল্লাকে 'মৃত' দেখানো হয়েছে এবং আকবর আলীকে 'নট ইন্ডিয়ান সিটিজেন' বলা হয়েছে। অথচ ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর পিতার নাম স্পষ্ট রয়েছে।
আঞ্জা বিবি মোল্লা: সন্দেশখালি বিধানসভার ৯৮ নম্বর পার্টের ২৮২ নম্বর সিরিয়ালের ভোটার তিনি। জীবিত থাকা সত্ত্বেও তাঁকে তালিকায় 'মৃত' হিসেবে দেখানো হয়েছে। তাঁর কাছে রেশন কার্ড ও অন্যান্য সমস্ত সরকারি নথি বর্তমান।
জনমনে আতঙ্ক ও চক্রান্তের ইঙ্গিত
আইএসএফ-এর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের কাজ সুষ্ঠু নির্বাচন করা এবং স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরি করা। নাগরিকত্ব যাচাই করা বা কাউকে বাংলাদেশী/মায়ানমারী চিহ্নিত করা কমিশনের কাজ নয়, এটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাজ। নেতৃত্ব দাবি করেন, "প্রায় ২৫০০-এর বেশি মানুষের কাছে এই ধরণের নোটিশ বা খবর গেছে। মানুষকে আতঙ্কের দিকে ঠেলে দিয়ে অরাজকতা তৈরির চেষ্টা চলছে। এর পিছনে বড় কোনও চক্র কাজ করছে যারা ইসিআই (ECI)-কে অন্ধকারে রেখে এই কাজ করছে।"
দাবি ও হুঁশিয়ারি
সিইও-র কাছে আইএসএফ-এর পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছে:
অবিলম্বে প্রেস কনফারেন্স করে মানুষকে আশ্বস্ত করতে হবে যে এই তালিকা ভুয়ো।
যারা এই বিভ্রান্তিকর লিফলেট বা তালিকা ছড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
ডিএম (DM) এবং ডিইও (DEO)-কে দিয়ে তদন্ত করে দোষীদের খুঁজে বের করতে হবে।
নেতৃত্ব হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, যদি স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরি না হয় এবং এই চক্রান্ত বন্ধ না হয়, তবে তাঁরা বৃহত্তম আন্দোলনের পথে হাঁটবেন এবং প্রয়োজনে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
