ভোটার তালিকায় নাম বাদ যাওয়ার আতঙ্ক? জানুন আপনার সাংবিধানিক অধিকার ও নওশাদ সিদ্দিকীর বার্তা
বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ভোটার তালিকা যাচাই এবং পরিচয় সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার আশঙ্কায় অনেকেই হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন।
হয়রানির নেপথ্যে রাজনীতি: শাসক ও বিরোধী পক্ষকে তোপ
নওশাদ সিদ্দিকীর অভিযোগ, ভোটার তালিকা যাচাইয়ের নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করার পেছনে তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপি—উভয় দলই সমানভাবে দায়ী। তিনি দাবি করেন, ২০২১ সালের নির্বাচনের মতো আবারও সিএএনআরসি (CNRC) বা ভোটার তালিকা সংশোধনের ভয় দেখিয়ে মানুষের মধ্যে মেরুকরণ তৈরির চেষ্টা চলছে।নির্বাচন কমিশনকে সামনে রেখে এই যে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে, তাতে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।
রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
বিধায়ক যুক্তি দেন যে, সাধারণ মানুষের এই হয়রানি খুব সহজেই বন্ধ করা সম্ভব ছিল যদি রাজ্য সরকার যথাযথ উদ্যোগ নিত। ভোটার তালিকা যাচাইয়ের নোটিশে যে ১৩টি নথির কথা বলা হয়েছে, তার মধ্যে দুটি নথি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:
১. স্থায়ী বসবাসের শংসাপত্র (Residential Certificate): যা রাজ্য সরকারের উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ প্রদান করে।
২. পারিবারিক রেজিস্টার (Family Register): যা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে সংরক্ষিত থাকে।নওশাদ সিদ্দিকীর মতে, নবান্ন থেকে ঘোষণা করে যদি মানুষের বাড়ি বাড়ি এই নথিগুলো পৌঁছে দেওয়া হতো, তবে হেয়ারিংয়ের টেবিলে সাধারণ মানুষকে পরিচয় নিয়ে কোনো প্রশ্নের মুখে পড়তে হতো না। কিন্তু রাজ্য সরকার সেই সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
সংবিধানের ৩৬২ অনুচ্ছেদ: আপনার রক্ষাকবচ বক্তৃতায় তিনি মনে করিয়ে দেন যে, ভারতীয় সংবিধানের ৩৬২ অনুচ্ছেদ (Article \ 326) অনুযায়ী ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে প্রতিটি ভারতীয় নাগরিকের ভোটাধিকার সুরক্ষিত। এটি একটি মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার, যা কোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তি চাইলেই কেড়ে নিতে পারে না।
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গেলে করণীয় কি?
যদি কোনো বৈধ নাগরিকের নাম ভোটার তালিকা থেকে অন্যায্যভাবে বাদ দেওয়া হয়, তবে নওশাদ সিদ্দিকী তিনটি প্রধান পদক্ষেপ বা আপিল প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ করেছেন:
ডিস্ট্রিক্ট ইলেক্টরাল অফিসার (DEO): নাম কাটার কারণ দর্শিয়ে নোটিশ পাওয়ার পর প্রথমেই জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে চ্যালেঞ্জ জানানো যাবে।
চিফ ইলেক্টরাল অফিসার (CEO): জেলা স্তরে সমাধান না হলে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।
আইনি ও ব্যক্তিগত সমর্থন: নওশাদ সিদ্দিকী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, কোনো বৈধ ভোটারের নাম বাদ গেলে তিনি ব্যক্তিগতভাবে সেই লড়াইয়ে শামিল হবেন এবং প্রয়োজনে বিষয়টি নিয়ে দিল্লিতে উচ্চ মহলে দরবার করবেন।
শান্ত ও সচেতন থাকার আহ্বান ভিডিও বা জয়েন্ট ভিডিও অফিস থেকে আসা নোটিশ দেখে আতঙ্কিত না হয়ে শান্ত মাথায় নথি গুছিয়ে হেয়ারিংয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। পরিযায়ী শ্রমিকদের ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে তথ্য পাঠানোর কথা বলা হয়েছে।
উপসংহার:
বৈধ নাগরিক হিসেবে আপনার ভোটাধিকার আপনার শক্তি। যেকোনো অন্যায় অপসারণের বিরুদ্ধে আইনি পথে লড়াই করার অধিকার আপনার আছে। দলমত নির্বিশেষে কোনো বৈধ ভোটারের অধিকার খর্ব হলে তার পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন এই জননেতা।
