২০২৬-এ কি বাংলায় পরিবর্তনের ডাক? মুসলিম-দলিত ঐক্য ও সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে বিস্ফোরক সাক্ষাৎকার
বর্তমানে বাংলার রাজনীতিতে জোট ও মেরুকরণের সমীকরণ নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। ২১ শে জুলাইয়ের রেশ এবং ২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে সম্প্রতি এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মতবিনিময়ে উঠে এল চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য। নওসাদ সিদ্দিকী, জোটের ভবিষ্যৎ এবং বর্তমান সরকারের ভূমিকা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা নিচে তুলে ধরা হলো।
জোট ও ২০২৬ এর রাজনৈতিক সমীকরণ
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বাম-কংগ্রেস-আইএসএফ জোট কি আবারো একসাথে লড়বে? এই প্রশ্নের উত্তরে রাজনৈতিক মহলে আলোচনার গুঞ্জন স্পষ্ট। তবে এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে যেটা সবচেয়ে বেশি জরুরি তা হলো 'দ্রুত সিদ্ধান্ত'। যদি জোট করার সদিচ্ছা থাকে, তবে তা দ্রুত করা প্রয়োজন, নতুবা মানুষের কাছে সঠিক বার্তা পৌঁছানো সম্ভব হবে না। সংবিধান ও মানুষের অধিকার রক্ষায় যারা আগ্রহী, তাদের 'ছুত-অছুত' বিচার না করে দ্রুত ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন।
সংবাদমাধ্যমের 'প্রোপাগান্ডা' ও মুসলিম সমাজ
কিছু তথাকথিত মিডিয়া মুসলিম সমাজকে মূলস্রোতে উঠে আসতে দিতে চাইছে না বলে অভিযোগ উঠছে। মূল স্রোতে মুসলিম সমাজ উঠে আসলে এসসি (SC) ও এসটি (ST) সম্প্রদায়ও তাদের প্রকৃত অধিকার ফিরে পাবে। কারণ, অভাবী ও বঞ্চিত মানুষের কষ্ট একে অপরের পরিপূরক।
"গরীবের কষ্ট গরীব বোঝে। মুসলিম সমাজ যেভাবে লাঞ্ছিত ও অপমানিত হয়েছে, একইভাবে দলিত ও আদিবাসী সমাজও স্বাধীনতার পর থেকে বঞ্চিত। এই দুই বঞ্চিত সমাজ এক হলে শোষকদের সিংহাসন টলে যাবে, আর এটাই কিছু মিডিয়া ও রাজনৈতিক দল চায় না।"
নওসাদ সিদ্দিকী ও হুমায়ুন কবির: দুই মেরুর লড়াই?
টিভি চ্যানেলগুলোতে প্রায়ই নওসাদ সিদ্দিকী ও হুমায়ুন কবিরকে একই পাল্লায় মাপা হয়। তবে বাস্তবতা হলো, হুমায়ুন কবিরের দল ও নওসাদ সিদ্দিকীর আইএসএফ-এর আদর্শ সম্পূর্ণ আলাদা। মুসলিম নেতৃত্বের উত্থানকে কেবল 'ধর্মীয় মোড়ক' দেওয়ার যে চেষ্টা চলছে, তাকে সচেতনভাবে রুখে দেওয়ার ডাক দেওয়া হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব যখন হিন্দুরা দেন, তখন তাকে 'হিন্দুদের দল' বলা হয় না, তাহলে মুসলিম নেতৃত্বের ক্ষেত্রে কেন এই বিভাজনের রাজনীতি?
শুভেন্দু অধিকারী ও তৃণমূলের 'বাইনারি কার্ড'
বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর কড়া সমালোচনা করে বলা হয়েছে যে, তিনি আসলে তৃণমূলের বড় প্রচারক। মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করে তিনি একপ্রকার মুসলিম সমাজকে তৃণমূলের দিকে ঠেলে দেওয়ার পরিবেশ তৈরি করছেন। এটি একটি সাজানো 'বাইনারি' বা বিভাজনের রাজনীতি। একদিকে কেন্দ্রীয় সরকার রাম মন্দির নিয়ে রাজনীতি করছে, অন্যদিকে রাজ্য সরকার দুর্গাপুজো বা মন্দির নিয়ে প্রতিযোগিতায় নেমেছে। অথচ মুসলিমদের ওবিসি (OBC) সংরক্ষণ ও আর্থ-সামাজিক মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া হচ্ছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: ব্রিগেডের ডাক?
শহীদ মিনারের সভার সাফল্য প্রমাণ করেছে যে মানুষের মনে জনরোষ তৈরি হয়েছে। সভার ভিড় সামলানো এবং চক্রান্তকারীদের হাত থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করার জন্য নেতৃত্বের রণকৌশল ছিল চোখে পড়ার মতো। আগামী দিনে যদি আইএসএফ ব্রিগেডে সমাবেশের ডাক দেয়, তবে তা বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন ইতিহাস তৈরি করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
